করোনাভাইরাস ! বিরুদ্ধে লড়তে ভিটামিন ডি এর ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা

করোনাভাইরাস Vitamin-D এর ভূমিকা

 

করোনা কালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে ভিটামিন-ডি

 

বর্তমানে সারা পৃথিবীকে থমকে দিয়েছে করোনাভাইরাস বা COVID-19, এটা এতটাই ছোঁয়াচে যে খুব কম সময়ে উৎপত্তিস্থল চীন ছাড়িয়ে সংক্রামিত করেছে সারা বিশ্বকে। পৃথিবীতে বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ৭৭০ কোটি, যা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। এই সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি যোগাযোগ ও বসবাসের ঘনত্ব বাড়ছে কাছাকাছি, আর এই ঘনত্ব যতই বাড়বে ততই জীবাণুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়ছে, যার ফলে বিভিন্ন অসুখ বিসুখের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও এখন দিগুন। তাই এখন এটা বলা কঠিন যে আমরা কত সময় প্রযন্ত নিজেকে এই দরনের ভাইরাস সংক্রামন থেকে রক্ষা করতে পারবো ? যেহেতু এই মহামারির সংক্রামন থেকে বাঁচতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাতে এবং ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন WHO, তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন এতে অনেকের শরীরেই ভিটামিন ডি এর ঘাটতি তৈরি হতে পারে। যার দরুন শরিরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

নতুন ইউরোপীয় গবেষণায় দেখা গেছে, শরিরে ভিটামিন D এর ঘাটতি ঘটলে  করোনাভাইরাস এর আক্রমণ আরও মারাত্মক ভাবে বাড়তে পারে। আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ, ডাবলিন এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের গবেষকরা, নতুন এক গবেষণায় ১১৭ টি দেশের বর্তমান অবস্থার দিকে নজর দিয়েছেন, যেখানে এই ভাইরাসটি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে কীভাবে আক্রান্ত করে তা দেখতে ১৫০ বা এর অত্যধিক COVID-19 কেস দ্বারা পর্যালোচনা করেছেন। গবেষকরা ৬৫ বা তার বেশি বয়স্কদের, প্রতিটি দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব, রাজধানী শহরের অক্ষাংশ এবং বায়ু দূষণের মাত্রার তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত তাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, প্রতিটি দেশের বয়স্ক লোকের অনুপাত Corona Virus মৃত্যুর হারকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছে, যেখানে 65 বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষের অনুপাতে শতাংশ সব চেয়ে বেশী। বয়স বিবেচনার পরেও বিবিন্ন দেশের অবস্থান অক্ষাংশ অনুযায়ী  উচ্চতর মৃত্যুর হারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসাবে রয়ে গেছে, গবেষকরা অনুমান করেছেন যে, পৃথিবীতে উত্তর অক্ষাংশের উত্তরে ২৮ ডিগ্রি অবস্থিত প্রতিটি দেশে মৃত্যুর হার ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অক্ষাংশের উপরে, গবেষকরা বলছেন, শীত ও বসন্তের মধ্যে সাধারণত ভিটামিন ডি রক্তের মাত্রা বজায় রাখতে লোক সাধারণত সূর্যের আলোতে পাওয়া পর্যাপ্ত পরিমাণে অতিবেগুনী বি এক্সপোজারের সংস্পর্শে আসতে পারে না।

সুস্বাস্থ্যের জন্য সেরা ২১টি স্বাস্থ্য টিপস সম্পর্কে জানুন এখানে

একটি দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে মৃত্যুতে তেমন প্রভাব পেলতে পারেনা কিন্তু সম্ভবত আশ্চর্যজনক ভাবে, দূষণের নেতিবাচকভাবে সম্পর্ক থাকে। অনেক গবেষণয় ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে যে, ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, এবং সবাইকে পরামর্শ দিচ্চেন যে, ভিটামিন ডি দ্বারা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হাড় এবং পেশীর স্বাস্থ্যের সমর্থন এবং প্রদাহ দমন করতে ভূমিকা রাখতে। কারন ভিটামিন ডি এর ঘাটতি COVID-19 এর সাথে যুক্ত হওয়ার প্রমাণও এখন বাড়ছে এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে নজরদারি করে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছে। ব্রিটেনে জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা পরামর্শ দিচ্ছে, প্রতিদিন ১০ মাইক্রোগ্রাম করে হলেও ভিটামিন ডি খাওয়ার, বিশেষ করে যারা বাইরে বেরোতে পারছে না। কারণ আমাদের ত্বক সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। যেহেতু এই সময়ে অনেকেই বাইরে যেতে পাছেন না কাজেই স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন ডি তৈরি হচ্ছেনা।

অধ্যাপক রোজ অ্যান-কেনি বলেছেন, আমাদের জনগোষ্ঠী ভিটামিন ডি পরিপূরক গবেষণার ফলাফল থেকে আগাম একটি কার্যকারক সংস্থা হিসাবে চিহ্নিত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যেখানে উত্তর অক্ষাংশে অনেক দেশগুলিতে ভিটামিন ডির ঘাটতির উচ্চ প্রবণতা দেখা যায় এবং এই Corona Virus এর সময় ঘরের বাইরের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ হ্রাস হওয়াতে এর ঝুঁকি এখন আরো দিগুন। আয়ারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলি সুপারিশ করছে যে, বয়স্ক ব্যক্তিরা, যারা মূলত বাড়ির ভিতরে থাকছেন, তাদের অন্যান্য সমস্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, তাই নিয়মিত ভিটামিন ডি গ্রহণ করা উচিত।

সহ-লেখক প্রফেসর “জোন রোডস” আরও যোগ করেছেন, “ভিটামিন ডি একটি এমন ভিটামিন – যেটি হরমোন এবং ত্বকের কোলেস্টেরলের উপর অতিবেগুনী আলোকের ক্রিয়া দ্বারা আমরা এর বেশিরভাগটি পাই সূর্যের আলো থেকে। আপনি যদি রৌদ্রোজ্জ্বল দেশে না থাকেন এবং প্রচুর পরিমাণে তৈলাক্ত মাছ না খেয়ে থাকেন। তাহলে আপনার স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে অবশ্যি ভিটামিন ডি সেবন করা প্রয়োজন।  কারণ এতে হাড় ক্ষয় ,স্বাস্থ্য বৃদ্ধি ও শক্তি, বিষণ্নতা হ্রাস , এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। আপনি জানলে অবাগ হবেন যে, আমেরিকার জনসংখ্যার প্রায় 41.6% এই জটিল ভিটামিনে অভাবগ্রস্ত।

শরিরের জন্য ভিটামিন ডি কেন প্রয়োজন?

ভিটামিন-ডি-কেন-প্রয়োজন

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ভিটামিন ডি

আমরা অনেকেই জানি সুস্থ হাড়, দাঁত এবং পেশির জন্য ভিটামিন ডি এর প্রয়োজন অপরিসীম। এই ভিটামিনের অভাবে হাড় পরিপূর্ণ ভাবে গড়তে পারেনা এবং শিশুরা রিকেট নামে রোগের শিকার হয় এছাড়াও প্রাপ্তবয়স্করা অস্টিওম্যালাসিয়া নামে দুর্বল হাড়ের রোগে ভুগে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে এই ভিটামিন ডি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং যে কোন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে। ব্রিটেনের পুষ্টি বিজ্ঞান গবেষণা উপদেষ্টা এখন একটি গবেষণা চালাচ্ছে যাতে দেখা হচ্ছে সংক্রমণজনিত বক্ষব্যাধিতে ভিটামিন ডি ঠিক কীভাবে শরিরে কাজ করে।

করোনাভাইরাসে ভিটামিন ডি কাজ করে কি ?

আসলে আমাদের প্রথমে এটা দেখা উচিত ভিটামিন ডি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, সেই ভাবেই এই উপাদানকে দেখা উচিত। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় এটা অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে এই ভাবে দেখা ঠিক হবেনা। কারণ এখনও গবেষণা থেকে এই দরনের কোন নিশ্চিত তথ্যপ্রমাণের পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীরা বলছেন এই মহামারির সময়ে ভিটামিন ডি সেবনের স্বাস্থ্যগত কিছু সুফল পাওয়া সম্ভব। কেননা যদি কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং তার শরীরে যদি ভিটামিন ডি এর অভাব থাকে, তাহলে এই ভাইরাস তার বেশি ক্ষতি করতে পারে। তবে এই সংক্রমণ সবচেয়ে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য, যারা এই মুহ্রতে অন্যন শারীরিক ঝুঁকিও রয়েছে, যেমন হার্টের সমস্যা বা ডায়েবেটিস বা ক্যান্সার।

এছাড়াও অধ্যাপক জন রোডস্-এর মতে, ভিটামিন ডি প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা আছে। যদি কেউ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ফুসফুস গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে এতটাই সক্রিয় হয়ে ওঠে যে তার ফলে “সাইটোকিন স্টর্ম” নামে প্রদাহ শরিরে দেখা দেয় এবং এই প্রদাহ শরীরের ভাল কোষগুলোকে ধ্বংস করতে শুরু করে। যেখানে এই ভিটামিন ডি ওই মারাত্মক প্রদাহ কমাতে তমুল সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ প্লো বা জ্বরে সাধারণত হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো সম্ভব হচ্চে না এবং যদিও কেও যাচ্ছেন এতে কিন্তু নিজেকে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সাধারণ প্লো গুলো থেকে রক্ষাপেতে শরিরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারেন।

বয়স অনুপাতে Vitamin D এর প্রয়োজন কতটুকু ?

বয়স-অনুপাতে-ভিটামিন-ডি

বয়স অনুপাতে ভিটামিন ডি এর প্রয়োজনীয়তা

সাধারণত যে কোন ওষুধ এড়িয়ে চলাটাই ভালো, যেহেতু চিকিৎসকরা খাবার পরামর্শ দিচ্ছেন তাই খেতে পারেন। তবে এটা মনে রাখবে যে কোন ওষুধ বেশি মাত্রায় খেলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। তবে এইটুকু নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, ওষুধ হিসাবে ভিটামিন ডি নিরাপদ। তবে যদি কারো শরিরে অন্যন্য কোন সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি অসুখ থেকে থাকে তাহলে তার সে বিষয়ে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ বিশেষ করে যারা কিডনির সমস্যা ভুগছেন, তাদের জন্য যে কোন বাড়তি ওষুধ বা ভিটামিন ডি খাওয়া নিরাপদ হবে না। বয়স ভিত্তিক শরীরে কতখানি ভিটামিন ‘ডি’ প্রয়োজন জেনে নিন।

  • জন্ম থেকে ১২ মাস : ৪০০ IU
  • ০১ থেকে ১৩ বছর : ৬০০ IU
  • ১৪ থেকে ১৮ বছর : ৬০০ IU
  • ১৯ থেকে ৭০ বছর : ৬০০ IU
  • ৭০ বছর এর ঊর্ধ্বে : ৮০০ IU
  • গর্ভবতী মহিলাদের জন্য : ৬০০ IU

ভিটামিন ডি’র প্রকারভেদ

স্বাস্থ্যগত কারণে মানুষের শরীরে যে ভিটামিন ডি থাকা একান্ত দরকার সেটা হল ডি-থ্রি। তবে ভিটামিন ডি-তে অনেক রকম প্রকারভেদ রয়েছে,

প্রকারভেদ সমূহঃ
১। সূর্যের আলো থেকে মানুষের ত্বক যে ভিটামিন তৈরি করে সেটা হচ্ছে ডি-থ্রি।
২। উদ্ভিদ যে ভিটামিন ডি তৈরি করে সেটা হচ্ছে ডি-টু।
৩। ওষুধ হিসাবে যে ভিটামিন ডি আমরা সেবন করি হচ্ছে  -ডি থ্রি।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে যেমন সুষম খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তেমনি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর রাখতে প্রয়োজন কিছু বাড়তি উপাদান যা ওষুধ হিসাবে খাবার প্রয়োজন হতে পারে। এটা বলা কঠিন যে শুধু মাত্র খাবার থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণ সম্ভব। সাধারণ সময়ে স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য সুষম খাবার খাওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই মহামারির প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সেটা খুবি জরুরি যে যেসব খাবার থেকে স্বাভাবিক ভাবে ভাল পরিমাণ ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সেগুলো গ্রহণ করা। তাই যেসব খাবার থেকে ভাল পরিমাণ ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সেগুলো হলো – তেলা মাছ, ডিম, সিরিয়াল জাতীয় খাবার এবং বাজারে কিছু কেনা দই ও মারজারিনে বাড়তি ডি ভিটামিন যুক্ত করা হয়।

সহজ ও কার্যকর উপায়ে ভিটামিন ডি পাওয়ার সহজ উপায়-

আয়ু বাড়াতে ভিটামিন ডি

সূর্যালোক থেকে পেতে পারেন দেহের চাহিদার ৮০ শতাংশ ভিটামিন ডি

এই সময়ে Vitamin D এর সুবিধা সম্পর্কে জানেন না এমন ব্যক্তি এখন কেও নেই, উন্নত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিদ্ধি, উন্নত সস্তিস্ক এবং শক্তিশালী হাড় গঠনে এর ভূমিকা অপরিহার্য। দুর্ভাগ্যক্রমে, আমাদের কাছে পরিহার করা ভিটামিনগুলির মধ্যে এটি একটি। এটি অনেক উচ্চ ঘনত্বের খাবারে মধ্যে ও পাওয়া যায় না এবং অনেক লোক ভিটামিন ডি – সূর্যের এক্সপোজার পাওয়ার এই বড় সুযোগটি হাতছাড়া করেন – কারণ তারা সারা দিন তাদের কর্মক্ষেত্রের ভিতরে আটকে থাকে।

সুতরাং, এই ভিটামিন এর অভাব বিশ্বব্যাপী সমস্যা। যদি আপনি ভাবেন যে আপনার Vitamin-D Supplement এর ঘাটতি হতে পারে তবে আপনার ডাক্তারের কাছে এটি পরীক্ষা করার জন্য জিজ্ঞাসা করা উচিত। ভিটামিন ডি এর ঘাটতির জন্য আপনি পরীক্ষা করতে পারেন, তবে একটি পরীক্ষামূলক সংস্থায় নির্ভুলতা এবং কার্যকারিতা মানগুলি পূরণ করে পরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করে নিন।

তবে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, অত্যধিক ভিটামিন ডি ওষুধ সেবনে শরিরে বিষক্রিয়া (toxicity) হতে পারে। কারণ কিছু ক্লিনিশিয়ানরা শরিরে ভিটামিন ডি অভাব পূরক হিসাবে এর আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা দেখতে শুরু করেছেন। যে কোনও উপায়ে, আপনি ভিটামিন ডি অভাব পূরণের জন্য অর্থ ব্যয় শুরু করার আগে নিচের বিষয় গুলো অনুসরণ করতে পারেন, আপনি স্বাভাবিক ভাবে ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণের জন্য এই ছয়টি কৌশল চেষ্টা করতে পারেন-

আপনার অফিস, বাড়ি বা গাড়ির জানাল খুলুনঃ

আপনার জানালার গ্লাসে UV ব্লক করে কিনা তা নির্ভর করে আপনার কী ধরণের উইন্ডোজ রয়েছে তার উপর। আন্তর্জাতিক অতিবেগুনী সমিতি অনুসারে স্ট্যান্ডার্ড উইন্ডোজগুলি শুধু UV-A রশ্মিকে যেতে বাধা দেয়, কিন্তু UV-B রশ্মিগুলিকে ভেতরে যেতে দেয়।তবে ঘরবাড়ি এবং বিল্ডিংয়ের বেশিরভাগ উইন্ডো কোন না কোনও উপায়ে পরিবর্তন করা হয়, যেমন উইন্ডো ফিল্ম বা রঙের সাহায্যে উভয় প্রকারের UV আলোককে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। তাই সম্ভবত আপনার বাড়ি বা অফিসের ক্ষেত্রে এবং আপনার গাড়ীতে উইন্ডোটি খোলাই, আপনাকে আরও সূর্যের আলো পেতে সহায়তা করবে।

আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ ধরে উইন্ডো খোলা রাখেন তবে সানস্ক্রিন পরতে ভুলবেন না, এছাড়াও পাশাপাশি আপনি যদি সরাসরি খোলা উইন্ডোর মুখোমুখি হন তবে UV-ব্লকিং চশমা বা সানগ্লাস পড়তে পারেন। তবে যদি বাইরে খুব রোদ হয়, তাহলে আপনার শরিরে ভিটামিন ডি উৎপাদন বাড়াতে আপনাকে 10 থেকে 15 মিনিটের বেশি উইন্ডো খোলার প্রয়োজন হবে না। আপনি যদি খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন যে আমাদের শহরের মানুষ গুলোর চেয়ে আমাদের গ্রামের মানুষ গুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবছে বেশী থাকে।

সকালের প্রথম মিষ্টি আলো উপভোগ করুনঃ

সকালের-মিষ্টি-আলয়-ভিটামিন-ডি

ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়িয়ে সকালের মিষ্টি আলোয় ভিটামিন ডি

সকালে নিজের জন্য অতিরিক্ত কিছু সময় নিন এবং যদি পারেন সকালের চা বা কপি ঘরের বাহিরে বা রোদে পান করুন। সকালের আলো দিনের সূর্যের আলোয়ের মতো কঠোর নয়, তবে আপনি কমপক্ষে আপনার ভিটামিন ডি এর ঘাটতি মিঠাতে কিছুটা সময় এমনভাবে পূরণ করতে পারেন। সকালে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন, কারণ জেনে রাখুন যে, আপনার ভিটামিন ডি শোষণের জন্য এর চেয়ে আর কোন ভালো উপকরণ হতে পারেনা। সকালে নিজের জন্য সময় বের করুন, এমনকি 10 থেকে 15 মিনিটের কম সময় হলেও, এটা আপনার দিনটিকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার সময় এবং চিন্তাভাবনা সাথে সারা দিনের কর্মকাণ্ড আপনার উদ্দেশ্য গুলি নির্ধারণ করার সময় অনেক সহজ করে তুলবে।

মাছের সাথে কিছু মাংস খাওয়ার চেষ্টা করুনঃ

মাছ-ও-মুরগিতে-ভিটামিন-ডি

শরীরের ইমিউনিটি বুস্টার যুক্ত করতে খাদ্যাভ্যাসে যোগ করুন মুরগি ও মাছ

US অফিসিয়াল ডায়েটিং সাপ্লিমেন্টসের তথ্য অনুসারে, চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন টুনা, স্যামন এবং ম্যাক্রেল এই ভিটামিন এর জন্য সর্বোত্তম। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাদ্য সংমিশ্রণ ডেটাবেস বিভাগ অনুযায়ী, আটলান্টিকের খামারগুলোর সালমনের 100-গ্রাম বা 526 আইইউতে, আপনার Vitamin D Supplement এর প্রয়োজনীয়তা প্রায় পূরণ করতে পারে। স্যালমন, সারদিনস, টিনজাত টুনা, রকফিশ, সার্ডাইনস, সর্ডারফিশ, ট্রাউট, হোয়াইট ফিশ ম্যাককেরেল এবং স্টারজন ইত্যাদি জাতের মাছে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বেশী থাকে। এছাড়াও মাশরুম, কমলা, ডিম, পনির ইত্যাদি।

ডিম খান পুরোটাইঃ

ডিমের হলুদ অংশ শরিরের জন্য ক্ষতি, বর্তমানে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্করা এই কথাটা শুনে শুনে বেড়ে ওঠেন। ডিম খেলে হার্টের স্টকের ঝুঁকি বাড়ে এবং রক্তে কোলেস্ট্রল বাড়ায় ইত্যাদি, যদিও এই রূপকথাটি বিজ্ঞানিরা বরাবর অস্বীকার করে আসছেন। কারণ ডিম এমন অনেক খাদ্য উৎসাগুলির মধ্যে একটি যা প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি ধারণ করে। আপনাকে পুরো ডিম খেতে হবে, কারণ ভিটামিন ডি থাকে ডিমের কুসুমে। তাই প্রতিদিনের শুধু ডিম ভিটামিন ডি প্রয়োজনীয়তা পূরণ করার পক্ষে পর্যাপ্ত নয়, তবে আপনার শরিরে স্বাস্থ্যকর প্রোটিন পৌঁছাতে সহায়তা করবে।

মধ্যাহ্নভোজনে বা বিকেলে হাঁটুন

মধ্যাহ্নভোজনে-ভিটামিন-ডি

ভিটামিন ডি এর সাথে সুগার ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটুন বিকেলে

সিএনইটি অবশ্যই সুরক্ষিত সূর্যের এক্সপোজারের পক্ষে সমর্থন করে না, তবে ত্বকের সুরক্ষা এবং ভিটামিন ডি গ্রহণের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রয়েছে। বেশিরভাগ লোকেরা ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ সূর্য পায় না এবং সানস্ক্রিন আপনার ত্বককে ইউভি আলোক শোষণ থেকে বিরত রাখে, যা ত্বকের ক্যান্সার এবং ভিটামিন ডি উভয়কে তার সক্রিয় আকারে রূপান্তর করার জন্য বিপরীতভাবে দায়ী। আপনি ভাবতে পারেন একজন ব্যক্তির তাহলে কি করা উচিত ! যেহেতু বেশিরভাগ ভিটামিন ডি প্রচুর পরিমাণে সূর্যের সংস্পর্শ থেকে আসে, তাই মধ্যাহ্নভোজনে একটু হাঁটাহাঁটি করা আপনার বেশিরভাগ ভিটামিন ডি প্রয়োজনীয়তা সরবরাহ করতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাজ্যে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে স্বাস্থ্যকর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ভিটামিন ডি এর পর্যাপ্ত রক্তের মাত্রা বজায় রাখতে মধ্যাহ্ন সূর্যের 15 মিনিটেরও কম সময় যথেষ্ট। তবে মধ্যাহ্নভোজনে সূর্যের আলো সকালের আলোর চেয়ে বেশি শক্তিশালী, যার অতিভেগুনি রশ্মি আপনার ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তবে আল্প সময়ের জন্য হলেও আপনি আপনার ভিটামিন ডি অভাব পূরণ করতে সম্ভব। তবে আপনার যদি ত্বকের ক্যান্সার বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতার থাকে বা পারিবারিক ইতিহাস থাকে, তাহলে আপনার ডাক্তারের দ্বারা প্রদত্ত যে কোনও সুরক্ষা প্রোটোকল অনুসরণ করা আপনার উচিত।

ডেঙ্গু জ্বর | ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

[box]পোষ্ট রিলেটেট ট্যাগ:ভিটামিন ডি এর উপকারিতা,ভিটামিন ডি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার,শরীরে হাড় ক্ষয়ে ভিটামিন ডি এর চাহিদা,ভিটামিন ডি কি জন্য ভাল‌,করোনাভাইরাস ভিটামিন ডি গ্রহণ করা উচিত,শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন ডি,vitamin d coronavirus কি কাজ করে,best vitamin d supplement,vitamin d বাংলা,vitamin d bangla,www.ridoybangla.com থেকে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত তথ্য সম্পর্কিত সকল আপডেট জানতে পারবেন।[/box]